![]() |
| Add caption |
নিয়মিত লোডশেডিংর দাপটে ছোটবেলার সন্ধ্যাগুলো প্রায় ছাদেই কেটেছে, তাই ছাদে ঘুরে, শুয়ে-বসে ছাদ-বিলাসটা আমার মজ্জাগত হয়ে গেছে। তিমিরময় নিবিড় নিশাই হোক অথবা ঘুমে-জাগরনে মেশা জোছনার রাত, রাতের বেলা ছাদে পায়চারি করার একটা ঝিমঝিমে নেশা আছে। এই সময় চোখ কুঁচকে বহু বহু আলোকবর্ষ দূরে যে সব তারা জ্বলছে তাদের দেখার একটা ব্যর্থ চেষ্টা করি আমি। কিছু তারা ধরা দেয়, সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশের জন্য, মাত্র একবারই। যে রাতে চাঁদ তার জোছনাকে সামলে রাখতে পারে না, সেই রাতে আমি ভেসে যাই রবীন্দ্রসঙ্গীতে, শরীর দিয়ে অনুভব করতে চাই কবির জোছনা রাতের গানগুলিকে।
করোনার দৌলতে এখন ছাদে ওঠাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। চারপাশ এখন শব্দহীন হয়েছে, ক্রমাগত যান্ত্রিক তাণ্ডবের হাত থেকে সাময়িক মুক্তি মিলেছে। সেদিন সুপারমুন এর রাতে চারদিকটা যখন জোছনায় ঝিমঝিম করছে, একা ছাদে পায়চারী করছি, কেমন গা ছমছম করে উঠল। চারদিকে গাঢ় ধূসর সব অসমাপ্ত বহুতল, বনাশের খাঁচা গায়ে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একগলা শূন্যতায় ডুবে আছে যেন। কিছুদিন আগেও সারাদিন, সারারাত আলো জ্বেলে কাজ হতো এখানে। এখন ভাসান শেষে পরিত্যক্ত কাঠামোর মতো পরে আছে। আর কি কখনও সেই কোলাহল ফিরে আসবে? না কি এক দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে প্রেতপুরীতে পরিণত হবে?
তখন যদি ওয়াল্টার ডে লা মেয়রের কবিতার পাতা থেকে সেই ধূসর চোখের ঘোড়সওয়ার ট্র্যাভেলার ফিরে এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে প্রশ্ন করে, “Is there anybody there?” তখন কি আমরা সাড়া দেব? দেব কি আমরা সাড়া ? না কি অন্তরীণ থাকতে থাকতে ভাষাহীন , চলৎশক্তিহীন “only a host of phantom listeners” হয়ে যাবো? আমাদের strangeness, আমাদের stillness তাকে বুঝিয়ে দেবে আর ডেকে কোনও লাভ নেই, দু-একটা পাখি হয়তো ঘুম ভেঙে ডানা ঝাপটে বলে যাবে আর সাড়া মিলবে না, ‘Tell them I came, and no one answered, / That I kept my word,’ সে ফিরে গেলে আবার সীমাহীন নৈঃশব্দ গ্রাস করবে আমাদের।

Comments
Post a Comment