"দেখো শতভিষা, হুইলের কাজে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল centering. Centering ঠিক না হলে তুমি হুইলে কিছুই করতে পারবে না।" একদলা মাখা মাটির তাল নিঁখুত ভাবে পটার'স হুইলের ঠিক মাঝখানে ধপ্ করে বসিয়ে দিলেন জুঁই দি। আমার পটারি-গুরু। ঘুরঘুর করে চাকা ঘুরতে শুরু করল, দুই হাতে জল মেখে নিয়ে কীভাবে দুই হাতের আঙুলের আলতো ভিজে আদরে মাটিকে ছুঁয়ে, তার কেন্দ্র বরাবর চাপ বাড়িয়ে তার গোপন রহস্য উন্মোচন করার মতো তাকে ধীরে ধীরে খুলতে হবে, আবার দুই আঙুলের দক্ষ চাপে তাকে উপরে তুলে ধরতে হবে, যেমন সাপুড়ের বাঁশীতে ফণা তোলে সাপ, দিতে হবে পছন্দের আকৃতি, দেখিয়ে দিয়ে জুঁই দি ছলে গেলেন ঘরের অন্য প্রান্তে। গভীর মগ্নতায় নিজের কাজে ডুব দিলেন। আর মাখা মাটির তাল নিয়ে জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করলাম আমি। যে অধ্যায়ের প্রতি পাতায় লেখা আছে জীবনের গভীর বাণী, যা কাজে বসলেই কিছু না কিছু শিখিয়ে চলে। এই শেখার কোনও শেষ নেই। মাটির কাজ হল mindfulness-র একটি যথার্থ উদাহরণ। Mindfulness, যা এখন প্রতিটি ম্যানেজমেন্ট কোর্সে গুরুত্ব দিয়ে পড়ান হয়, মাটি
কত অবলীলায় তার পাঠ দেয়, বিনা পয়সায়। মনের চাপ, উদ্বিগ্নতা শুষে নিতে এর জুড়ি মেলা ভার।
কত অবলীলায় তার পাঠ দেয়, বিনা পয়সায়। মনের চাপ, উদ্বিগ্নতা শুষে নিতে এর জুড়ি মেলা ভার।
হুইলে বসে মাটির তাল কে নিঁখুত centering করলেই হবে না, নিজের মনটাকেও সমগ্রভাবে ওই centering-র সাথে কেন্দ্রীভূত করতে হবে। মনে গতকাল কী ঘটেছে,আগামীকাল কী ঘটতে পারে এসব ভাবনা এলেই , গেল। মন থাকবে শুধু মাটির তালে, তার নরম শরীরে কতটা জলের ভার সে বইতে পারবে, আঙুলের কতটা চাপ সে সইতে পারবে শুধুমাত্র তাই ভাবতে হবে। মনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরকেও স্থির, নিশ্চল রাখতে হবে। আঙুলের এদিক-ওদিক হলেই অভিমানিনী নারীর মতো মাটি এলিয়ে পড়বে। এবং ধৈর্য্য। কখন সুতোর আলতো চাপে মাটিকে হুইল্মুক্ত করতে হবে, তা আমি ঠিক করব না, ঠিক করবে মাটি। মাটি বড় স্বেচ্ছাচারী। আর কি শিখিয়েছে মাটি? Acceptance. মাটির কাজে নিশ্চয়তা বলে কোনও শব্দ নেই। পৃথিবীর বুক খুঁড়ে, জল, বাতাস এবং আগুনের মিলিত রসায়নে পটাররা যা তৈরি করেন তা মাটির মর্জির ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। পোড়াবার পর ফাটবে? জানিনা। কী রঙ আসবে? নীল-ও আসতে পারে, সবুজও আসতে পারে। যা আসবে তোমাকে তাই accept করতে হবে। রাজী?

Comments
Post a Comment